বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এইচবিআরআই পরিবেশবান্ধব সোনারবাংলা নির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছে-একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম

অর্থনীতি জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সারাদেশ

ঢাকা :  হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ১৯৬০ সালের নভেম্বরে এস্টাবলিশমেন্ট অব বিল্ডিং রিসার্স সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে দেশজ নির্মাণ উপকরণ ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিপুল জনগোষ্ঠির আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এইচবিআরআই নামে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠানেরই মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মকা- ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সাপ্তাহিক স্বদেশ খবরের সঙ্গে। বলেছেন এইচবিআরআইকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা। এইচবিআরআইকে গড়ে তুলতে চান আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে। দেশ-বিদেশের গবেষক-প্রকৌশলীদের জন্য ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’-এ পরিণত হবে এইচবিআরআই এমনটাই আশা তাঁর।

 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এইচবিআরআই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জানতে চাই।
পরিকল্পিত নগর; নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এইচবিআরআই। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও গবেষণার মাধ্যমে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের স্বল্প ও মাধ্যম আয়ের মানুষের জন্য টেকসই, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, অবকাঠামো নির্মাণ এইচবিআরআই-এর মিশন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একমাত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই)। প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ও প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে। পাশাপাশি ভবনের নকশার জন্য পরামর্শক সেবাও দেয়। একইভাবে বিকল্প নির্মাণ উপকরণ ও প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং জনগণকে এসবের ব্যবহার সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শক সেবা দেয়া ও এ সম্পর্কিত নীতিমালা তৈরিতে সহায়তা করে এইচবিআরআই। আজকের এইচবিআরআই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে স্বল্পতম সময়ে, স্বল্প খরচে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ ধারাবাহিকতায় এখন আমরা দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

 

অপরিকল্পিত নগরায়ন রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের প্রায় সব শহরের প্রধান সমস্যা। যানজট-জলাবদ্ধতার নেপথ্যে অন্যতম কারণ এই অপরিকল্পিত নগরায়ন। ‘পরিকল্পিত নগর, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন’ গড়তে এইচবিআরআই কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে?
স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এইচবিআরআইয়ের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ দূষণের একটি বড় কারণ পোড়ামাটির ইট। এর বিকল্প হিসেবে ‘ব্লক’ ব্যবহার শুরু করেছি। এ ইট যেমন পরিবেশসম্মত, তেমনি পোড়ামাটির ইটের চেয়েও শক্তিশালী। পোড়ামাটির ইটের বিকল্প নিয়ে আমাদের গবেষণা কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মানুষকে বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলছে এইচবিআরআই। সংস্থাটিও অনেক নির্মাণসামগ্রী উদ্ধাবন করেছে। বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ব্যয়বহুল নাকি সাশ্রয়ী?
সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর চেয়ে এইচবিআরআই উদ্ভাবিত নির্মাণসামগ্রী অনেক বেশি সাশ্রয়ী। ফেরোসিমেন্ট প্রযুক্তি দিয়ে এইচবিআরআই ক্যাম্পাসে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত খরচের তুলনায় ৩০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। বিকল্প নির্মাণসামগ্রীর মাধ্যমে নির্মাণ ব্যয় আরো কমিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইটের ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে নদীর ড্রেজড সয়েল, হাস্কিং মিল থেকে পাওয়া ধানের তুষ, সিরামিক কারখানার বর্জ্যরে মতো উপকরণ নিয়ে কাজ করছি। এসব উপকরণ ব্লক উৎপাদনের খরচ আরো কমিয়ে দেবে বলে আমরা আশাবাদী।

এইচবিআরআইয়ের এ বিকল্প নির্মাণসামগ্রীগুলো মানুষ কতটা গ্রহণ করছে?
এটা ঠিক যে এইচবিআরআইয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো অনেকেই ওয়াকিবহাল না। এখানে যোগ দেয়ার পর পরই বিষয়টি আমার নজরে আসে। সমস্যাটি দূর করতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এইচবিআরআইয়ের ওয়েবসাইটটি হালনাগাদের উদ্যোগ গ্রহণ করি। এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে এ ওয়েবসাইট থেকেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য মানুষ পেয়ে যাচ্ছে। বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেরও সহায়তা নেয়া হচ্ছে। আগামী অক্টোবরে দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় প্রদর্শনীতেও এইচবিআরআই বিভিন্ন উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৫ সালের মধ্যে পোড়ামাটির ইট ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিকল্প নির্মাণসামগ্রীর জন্য তো দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকও প্রয়োজন হয়। বিষয়টি নিয়ে এইচবিআরআই কি কোনো কাজ করছে?
দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। এইচবিআরআই নির্মাণকর্মীদের জন্য মেসন ট্রেনিং আয়োজন করে। এ প্রশিক্ষণে নির্মাণকর্মীরা পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা পেয়ে যান। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। টেকসই ও নিরাপদ আবাসনের জন্য এইচবিআরআই পাঁচ লাখ দক্ষ নির্মাণ শ্রমিক তৈরির একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।


তাপমাত্রা সহনশীল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এইচবিআরআই কি কোনো কাজ করছে?
আমরা জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে একটি বিশেষ ধরনের ইট নির্মাণ করা হবে। এ ইট হবে অনেকটাই তাপমাত্রা সহনশীল। গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা রাখবে আর ঠান্ডা দিনে গরম। পাশাপাশি আমরা ভবনের নকশা নিয়েও কাজ করছি। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুবিধা রাখা হচ্ছে এসব নকশায়। এইচবি আরআই উদ্ভাবিত প্রযুক্তি আর প্রণয়ন করা নকশার মাধ্যমে ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের খুব একটা দরকার হবে না।
আবাসন বাংলাদেশে এখনো একটি বড় সমস্যা। শহরাঞ্চলে সমস্যাটি আরো প্রকট। কীভাবে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলা যায়?
প্রযুক্তি ও বিকল্প নির্মাণ উপকরণ দিয়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই ভবন নির্মাণ সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন। এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে এইচবিআরআইসহ দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলের মানুষকেও উন্নত আবাসন সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা হচ্ছে।
‘নিজের বাড়ি, নিজেই করি’ স্লোগানে এইচবিআরআই অনেকগুলো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ সম্পর্কে জানতে চাই।
এইচবিআরআইয়ের প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে ‘নিজের বাড়ি, নিজেই করি’ অন্যতম সফল একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এরই মধ্যে ৯৪টি ব্যাচকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে বাড়ির ফাউন্ডেশন কেমন হবে, মাটি পরীক্ষা কেন দরকার, কোন প্রতিষ্ঠানে মাটি পরীক্ষা করা যাবে, নকশা প্রণয়নসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় ধারণা দেয়া হয়। বাড়ি নির্মাণের প্রতিটি ধাপ বা পর্যায় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয় এসব প্রশিক্ষণে। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তার বাড়ির কাজ সঠিকভাবে ও প্রয়োজনীয় সব নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা, তা তিনি নিজেই তদারক করতে পারবেন।
ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলের বিদ্যমান অবকাঠামোগুলোর ভূমিকম্প সহনীয়তা নিয়েও তো এইচবিআরআই কাজ করছে। এ সম্পর্কে জানতে চাই।

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদ্যমান অবকাঠামোগুলো কতটা ভূমিকম্প সহনীয় কিংবা কী পরিমাণ ভবন ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে, তা জানতে জাইকার সহায়তায় এইচবিআরআই একটি গবেষণা পরিচালনা করছে। যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এরই মধ্যে ঢাকার ৮০০ বিল্ডিংয়ের ওপর জরিপ করা হয়েছে। যেসব ভবন অত্যধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেগুলোকে ‘রেড’, তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে ‘ইয়েলো’ এবং নিরাপদ ভবনগুলোকে ‘গ্রিন’ জোনে রাখা হয়েছে। শিগগিরই গবেষণার ফলাফল সরকারের কাছে পেশ করা হবে। যার আলোকে সরকার ও সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো বিভিন্ন নীতি ও কৌশল গ্রহণ করে নিরাপদ অবকাঠামোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
এইচবিআরআই নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদানের পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমি স্বপ্ন দেখি, এইচবিআরআই একদিন আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশ-বিদেশের গবেষক-প্রকৌশলীদের জন্য ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’-এ পরিণত হবে। উন্নয়ন আর উদ্ভাবনে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এইচবিআরআই কাজ করবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে।

বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আশরাফুল আলম

বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রকৌশলী মো: আশরাফুল ইসলাম

জন্ম ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম কাশেম আলী আকন্দ এবং মাতা মরহুমা আমেনা খাতুন। ১৯৮২ সালে স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন কর্পূর বাই-ল্যাটারাল উচ্চবিদ্যালয় থেকে। স্টার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন ১৯৮৪ সালে পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে।
তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-রুয়েট থেকে ১৯৮৯ সালে মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণীতে ২য় হিসাবে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও ২০০৯ সালে তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৫তম বিসিএস (পাবলিক ওয়ার্কস) ক্যাডারের মেধাতালিকায় প্রথম হিসাবে ১৯৯৫ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন গোল্ড মেডালিস্ট খেতাবপ্রাপ্ত আশরাফুল আলম।

তিনি ১৯৯৮ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০০৭ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১, মেডিক্যাল কলেজ ডিভিশন, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল এবং রংপুর গণপূর্ত জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি চাকরি ক্ষেত্রে অনেক সুনাম অর্জন করেন। তিনি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর গণর্পূত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। আর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর।
অত্যন্ত মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম তাঁর চাকরি ও কর্মকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যতম অবদান রাখায় হজ্জব্রত পালন করার সুযোগ প্রদান করেন।

চাকরিরত অবস্থায় তিনি দেশে বিদেশে বিভিন্ন খন্ডকালীন দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এছাড়াও তিনি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিংয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং একজন নিয়মিত প্রশিক্ষক হিসেবে পিডব্লিউডি ট্রেনিং একাডেমিতে পিপিআর এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)- এর আজীবন ফেলো। তিনি ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিমিটেড, বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতি ইত্যাদির আজীবন সদস্য। এ ছাড়াও তিনি অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা, আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স, অ্যাসোসিয়েশন অব পাবনা এক্স ক্যাডেট, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং ওল্ড স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, গুলশান সোসাইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং রিক্রিয়েশন সেন্টারসহ অসংখ্য সংস্থার সদস্য।
চাকরি ছাড়াও তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন কন্যা এবং এক পুত্র সন্তানের জনক।
বঙ্গুবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত এক সময়ের তুখোর ছাত্রনেতা প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অবদান রেখেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *